সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

টান

ফুল থেকে নাড়ি ছিড়ে কোলে দিতেই ফুলির বুকের ভিতর কিসের যেন ছোঁয়া লাগে। আতুরের বিকট গন্ধ খোলস পালটে নাকের ডোগায় ভুরভুর করে ওঠে। অথচ এক বছর আগেও এই গন্ধ তার সহ্য হত না। ‘ওয়াক থ...

মড়ক - আলী হোসেন

মড়ক আলী হোসেন      কোনটা সময় আর কোনটা অসময়, সময়টা চলে না গেলে যেন বোঝা যায় না। বলা ভালো, ঠিকঠাক বোঝা যায় না। বিজ্ঞজনেরা তো তা-ই বলে। রতন বিজ্ঞজনও নয়, সময়ের গলিঘোঁজ খুঁজে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও তার কম্ম নয়। তবে তার সময় যে ভালো যাচ্ছে না, সে বিলক্ষণ জানে। জানে বলেই বোধ হয় বিষন্ন হয় মন, কখনও সখনও ভারিও। বিশেষ করে বাড়ির উল্টোদিকের ফুটে আকাশ ছোঁয়া মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানির বিল্ডিংটা দেখলেই তার বুকের ভেতরটা যেন চিনচিন করে ওঠে।      কিন্তু মন খারাপ করে যে কোন লাভ নেই। বাবা পরেশ পাড়ুই বলতেন, ‘কপালের লিখন বল বা ভাগ্যের চাকা – কোনটারই নিয়ন্ত্রন আমাদের হাতে নেই’। রতনেরও তাই মনে হয়। না হলে কি আর ওকে মোটর মেকানিক হয়ে জীবন কাটাতে হয়? সারাদিন গ্যারেজে কাজ, তারপর কালিঝুলি মেখে ভূত হয়ে বাড়ি ফেরা। কবে কবে যেন গায়ের রংটাই গেল পালটে। মা বলে, বাবার মতই গায়ের রঙ ছিল ওর। পড়াশুনায়ও দারুণ। বাবার ইচ্ছা ছিল, ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে; রতনও তাই ভাবতো। কিন্তু ভাবলেই কি আর সব হয়? কপালই তো ডাঁড়াশের ইঁদুর গেলার মত মোড়া মেরে ভরে দিল গ্যারেজে। তাই ডাক্তার হয়ার স্বপ্ন, ভাঙলো মোটর মেকানিক হয়ে। ...

নূরের জ্যোতি

ছোটগল্প : নূরের জ্যোতি  — আলী হোসেন কেমনে রাখবো কুল / পটল গাছে হয়না পটল / না ছোঁয়ালে ফুল— সুর করে গান গাইতে গাইতে মাঠে যাচ্ছে নুর। সবাই তাকে নূর ব’লে বটে, কিন্তু পুরো নাম, শেখ নুর মোহাম্মদ। ফজরের নমাজ শেষ করেই মাঠে বেরিয়েছে সে। হাতে একটা স্টিলের থালা। থালায় থরে থরে সাজানো রয়েছে গোছা গোছা ফুল। ঠিক যেন পুজোর ডালি। না না, কোন সুগন্ধি ফুলটুল নয়, নয় ভোরের শিউলিও। পটলের ফুল। আগের দিন বিকাল বেলা ক্ষেত থেকে তুলে আনা পটল লক্ষ্মীর প্রিয় প্রসাদ। হৃষ্টপুষ্ট ‘পুরুষ ফুল’। ঠিক যেমন পূজোর ডালি সাজিয়ে গৃহকর্ত্রী এগিয়ে যায় গৃৃৃহ লক্ষ্মীর আঙিনায়, তার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে, তাকে খুশি করার অভিপ্রায় নিয়ে; ঠিক তেমনি নৈবেদ্য সাজিয়ে নূর চলেছে তার গৃহলক্ষীর আবাসভূমি পটল ক্ষেতে। রোদ চড়ার আগেই তার চরণে নিবেদন করতে হবে এই পরম নৈবেদ্য। তার ছোঁয়ায় লক্ষীর প্লাসেন্টায় গেঁথে যাবে নতুন নতুন কুঁড়ি। ক্ষেতময় জেগে উঠবে শয়ে শয়ে পটল লক্ষীর নতুন অবয়ব। —‘ক’নে যাচ্চিস রে নুর?’ —রাস্তার ধারে ঝোপের আড়াল থেকে প্রশ্নটা ভেসে আসে। নুর ভাবে, করিম চাচার গলা না! যদিও করিম নূরের আপন চাচা নয়। তবে নুর ‘ফারাক’ ...

আদুরী

আদুরী লিখেছেন আলী হোসেন আলপথ। সাবধানে পা ফেলছে ইসলাম। যথাসম্ভব দ্রুত পায়ে। দুপুরের আযান শেষ হয়েছে একটু আগে ই। আজান মানেই ছুটির ঘন্টা। পেটের নাড়িতে টান। তাই ঘরে ফেরার তাড়া। পথের দু'পাশের জমিতে সরিষা গাছের ফুল এসেছে। যেন পটে আঁকা ছবির মতো দেখাচ্ছে দু’পাশটা। মৌমাছির আনাগোনাও বেড়েছে তাই। মৌমাছির আলিঙ্গনে সরিষা ফুলের গভীর নিঃশ্বাসে শব্দ শুনতে পায় ইসলাম। রঙ ধরে মনে। ইচ্ছা করে দু'দণ্ড দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু মনটা যে পড়ে রয়েছে বাড়িতে। দু'বছরের মেয়েটা যা পাকা হয়েছে না! চলতে চলতে হেসে ওঠে ইসলাম - ‘যেমন মা তার তেমন মেয়ে’। উঠানে পা দিতেই নজর পড়ে মামণির দিকে। দুই হাত মাথা'র উপর তুলে ছুটে আসছে। বেসামাল পা, শুদ্ধ ওঠা দুটো দুটো চারটি দাঁত। উপরে দুটো, নিচে দুটো। দুধ সাদা দাঁত বের করে ছুটছে আর পিছন দিকে তাকাচ্ছে। মায়ের আগেই পৌঁছাবে সে। উঠানেই বসে পড়ে ইসলাম। সমস্ত গায়ে বিকেলে বিলের পচা মাটির গন্ধ। পরোয়া নেই তাতে। দুইহতে গলা জড়িয়ে বলে, “আব্বু, তুমি থুদু আমাল আদল কলবে, আম্মুকে না। কাল লাতে, থুদু আম্মুকে আদল কলেচো।” মেয়ের কথায় লজ্জা পায় আদুরী। চোখ মুখ লাল হয়ে ওঠে। এক ছু...

রচনাকাল অনুযায়ী গল্প : পড়ুন 👉 এখানে ক্লিক করে