সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

২০০৯ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

খোঁজ : প্রথম পাতা

গল্প : খোঁজ - আলী হোসেন। প্রথম পাতা ( গল্প সংকলন : দ্বিতীয় পিতা ) শুরু থেকে পড়ছেন আগের পাতা                         গল্প সংকলন                       দ্বিতীয় পাতা কীবোর্ডে স্ট্রোকের আওয়াজ। খট্-খট্‌, খট্, খট্-খট্-খট্, খট্-খট্,....। এত জোর যেন কান-মাথা ধরে যায়।! দশ-দশটি কীবোর্ড। চলছে এক সাথে। মাথার সাধ্য কি, না ধরে যায়!। এর মধ্যে ঋদ্ধির স্টোকের জোর, একটু বেশিই। বিগত দশ বছর ধরে চলছে এই কী-আঙ্গুলের ঠোকাঠুকি। তাই গা-সহা হয়ে গেছে সব। ক্রমে গভীর হয়েছে হৃদ্যতা, ঋদ্ধির সাথে কীগুলোর। কিন্তু পাশের জনের সহ্য হবে কেন? হ্যালো, শুনছেন? ঋদ্ধি বুঝতে পারেন, ওকেই উদ্দেশ্য করা হচ্ছে। একটু আস্তে স্ট্রোক দিন না! বাঁ পাশের সিটে বসা ছিপছিপে মেয়েটা বিরক্ত হয়। কীবোর্ডের খট খট আওয়াজ মাইক্রোফোন যেন লুফে নিচ্ছে। তাই সাথির কথার চেয়ে ওটাই বেশি পাচ্ছে পিউ। পিউ সাথির চ্যাট-ফ্রেন্ড। ভয়েজ চ্যাটেই ওরা বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আস্তে স্ট্রোক দেওয়ার চেষ্টা বরাবরই করে ঋদ্ধিনাথ। কিন্ত...

টান

ফুল থেকে নাড়ি ছিড়ে কোলে দিতেই ফুলির বুকের ভিতর কিসের যেন ছোঁয়া লাগে। আতুরের বিকট গন্ধ খোলস পালটে নাকের ডোগায় ভুরভুর করে ওঠে। অথচ এক বছর আগেও এই গন্ধ তার সহ্য হত না। ‘ওয়াক থ...

নূরের জ্যোতি

ছোটগল্প : নূরের জ্যোতি  — আলী হোসেন কেমনে রাখবো কুল / পটল গাছে হয়না পটল / না ছোঁয়ালে ফুল— সুর করে গান গাইতে গাইতে মাঠে যাচ্ছে নুর। সবাই তাকে নূর ব’লে বটে, কিন্তু পুরো নাম, শেখ নুর মোহাম্মদ। ফজরের নমাজ শেষ করেই মাঠে বেরিয়েছে সে। হাতে একটা স্টিলের থালা। থালায় থরে থরে সাজানো রয়েছে গোছা গোছা ফুল। ঠিক যেন পুজোর ডালি। না না, কোন সুগন্ধি ফুলটুল নয়, নয় ভোরের শিউলিও। পটলের ফুল। আগের দিন বিকাল বেলা ক্ষেত থেকে তুলে আনা পটল লক্ষ্মীর প্রিয় প্রসাদ। হৃষ্টপুষ্ট ‘পুরুষ ফুল’। ঠিক যেমন পূজোর ডালি সাজিয়ে গৃহকর্ত্রী এগিয়ে যায় গৃৃৃহ লক্ষ্মীর আঙিনায়, তার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে, তাকে খুশি করার অভিপ্রায় নিয়ে; ঠিক তেমনি নৈবেদ্য সাজিয়ে নূর চলেছে তার গৃহলক্ষীর আবাসভূমি পটল ক্ষেতে। রোদ চড়ার আগেই তার চরণে নিবেদন করতে হবে এই পরম নৈবেদ্য। তার ছোঁয়ায় লক্ষীর প্লাসেন্টায় গেঁথে যাবে নতুন নতুন কুঁড়ি। ক্ষেতময় জেগে উঠবে শয়ে শয়ে পটল লক্ষীর নতুন অবয়ব। —‘ক’নে যাচ্চিস রে নুর?’ —রাস্তার ধারে ঝোপের আড়াল থেকে প্রশ্নটা ভেসে আসে। নুর ভাবে, করিম চাচার গলা না! যদিও করিম নূরের আপন চাচা নয়। তবে নুর ‘ফারাক’ ...

আদুরী

আদুরী লিখেছেন আলী হোসেন আলপথ। সাবধানে পা ফেলছে ইসলাম। যথাসম্ভব দ্রুত পায়ে। দুপুরের আযান শেষ হয়েছে একটু আগে ই। আজান মানেই ছুটির ঘন্টা। পেটের নাড়িতে টান। তাই ঘরে ফেরার তাড়া। পথের দু'পাশের জমিতে সরিষা গাছের ফুল এসেছে। যেন পটে আঁকা ছবির মতো দেখাচ্ছে দু’পাশটা। মৌমাছির আনাগোনাও বেড়েছে তাই। মৌমাছির আলিঙ্গনে সরিষা ফুলের গভীর নিঃশ্বাসে শব্দ শুনতে পায় ইসলাম। রঙ ধরে মনে। ইচ্ছা করে দু'দণ্ড দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু মনটা যে পড়ে রয়েছে বাড়িতে। দু'বছরের মেয়েটা যা পাকা হয়েছে না! চলতে চলতে হেসে ওঠে ইসলাম - ‘যেমন মা তার তেমন মেয়ে’। উঠানে পা দিতেই নজর পড়ে মামণির দিকে। দুই হাত মাথা'র উপর তুলে ছুটে আসছে। বেসামাল পা, শুদ্ধ ওঠা দুটো দুটো চারটি দাঁত। উপরে দুটো, নিচে দুটো। দুধ সাদা দাঁত বের করে ছুটছে আর পিছন দিকে তাকাচ্ছে। মায়ের আগেই পৌঁছাবে সে। উঠানেই বসে পড়ে ইসলাম। সমস্ত গায়ে বিকেলে বিলের পচা মাটির গন্ধ। পরোয়া নেই তাতে। দুইহতে গলা জড়িয়ে বলে, “আব্বু, তুমি থুদু আমাল আদল কলবে, আম্মুকে না। কাল লাতে, থুদু আম্মুকে আদল কলেচো।” মেয়ের কথায় লজ্জা পায় আদুরী। চোখ মুখ লাল হয়ে ওঠে। এক ছু...

আলী হোসেনের ছোটগল্প : ঘোর

ঘোর ছোটগল্প : ঘোর আলী হোসেন তিনটে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের আপ বনগাঁ লোকাল পাঁচ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে এখনিই ছাড়বে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মুনির দৌড়াতে শুরু করে। দৌড়ে ট্রেন ধরা তার নিত্য-অভ্যাস। হঠাৎ খেয়াল হয়, আজ তো সে একা নেই। কয়েক কদম এগিয়েই থমকে দাঁড়ায়। পিছিয়ে আসে। রাহুলের ডান হাতটা বাঁ-হাতে ধরে আস্তে আস্তে ট্রেনে ওঠে। রাহুল অসুস্থ। আপনি কখনও বনগাঁ লোকালে চড়েছেন? ঠিক ধরেছেন। আপনাকেই বলছি। চড়ে থাকলে ভালো, না চড়লে চলুন বেরিয়ে পড়ি। ধরুন, ট্রেনে চেপে আপনি মসলন্দপুর স্টেশনে নামলেন। ছোট্ট মফস্বল শহর। নামতেই শহরের যানজট আর দূষণ আপনাকে অক্টোপাসের মতো বেঁধে ফেলবে। এসব ঠেলে সোজা দক্ষিণমুখী রাস্তা ধরুন, বেশ কিছুটা এগোন অটো বা ট্রেকারে করে, দেখবেন সামনেই পড়বে বড়সড় বাজার। নাম বাগজোলা বাজার। কেন এমন নাম? এর সঙ্গে বাঘ বাবাজির পূর্বপুরুষের কোন সম্পর্ক ছিল কিনা? এসব আমি জানিনে। বাজারে পৌঁছানোর আগেই, এএএইখানটায় থামুন। এটা কলসুর মোড়। এই দেখুন, মোড় থেকে ডানদিকে ওওই রাস্তাটা সোজা পশ্চিম দিকে গেছে। এটা ধরে বেশ কয়েক মাইল এগোলেই, পরপর বেশ কটা গ্রাম পড়বে। কলসুর, চাঁড়াল আটি, বেলেখালি, পারপাটনা —এই সব প্রত্য...

রচনাকাল অনুযায়ী গল্প : পড়ুন 👉 এখানে ক্লিক করে